কুরআন অধ্যায়নের রূপরেখা
মাওলানা মুহাম্মদ ওয়াইস নদবী রহ.
অনুবাদ: শাহ আবদুল আযীয
মুদ্রিত মূল্য : ১০০৳
নাশাত পাবলিকেশন
কুরআন কারিম আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত মহিমান্বিত গ্রন্থ। এ গ্রন্থ থেকে উপকৃত হতে হলে সর্বপ্রথম যে বিষয়টি প্রয়োজন তা হচ্ছে, কুরআনের সঙ্গে তেলাওয়াতকারীর এক গভীর হৃদয়জ সম্পর্ক তৈরি হওয়া। কুরআন কারিমের ছত্রে ছত্রে পাতায় পাতায় আছে হেদায়েতের ঝর্নাধারা। হেদায়েতের সে ঝর্নাধারায় নিজেকে সিক্ত করতে প্রয়োজন প্রচণ্ড আগ্রহ-উদ্দীপনা আর পর্যাপ্ত বিনয় ও খোদাভীতির। এ অনুভূতি সর্বদা হাজির থাকতে হবে যে, আমি কুরআন তেলাওয়াত করছি। কুরআন অনুধাবনের এটি মৌলিক এবং অপরিহার্য শর্ত। আপাদমস্তক শরিয়তবিরোধী জীবনযাপন করেন যিনি এবং ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে যিনি ডুবিয়ে রেখেছেন পাপাচারের সমুদ্রে- তার কাছে কুরআন কারিমের অপার রহস্য ও প্রজ্ঞাপূর্ণ গূঢ়তত্ত্ব কখনোই উন্মিলিত হওয়ার আশা করা যায় না।
এ ছাড়া রয়েছে প্রয়োজনীয় বহু নীতি। যেমন আরবিভাষা সম্পর্কে গভীর জানাশোনা থাকা; পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় জ্ঞানের শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ। আরেকটি বিষয় হলো কুরআন নাজিলের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তথা তৎকালীন বিশ্বাসী এবং অবিশ্বাসী উভয়শ্রেণির জীবনযাপনপদ্ধতি, অভ্যাস-ঐতিহ্য, রীতিনীতি এবং অন্য ধর্মাবলম্বীদের আচার-বিশ্বাস সম্পর্কে অবহিত থাকা।
কুরআন কারিমের হেদায়েত অন্বেষীদের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক নির্দেশনা একজন শাস্ত্রজ্ঞ আলেমের কলম থেকে আসার প্রয়োজন ছিল। জেনে ভালো লাগছে, এই জরুরি কাজটি একজন নদবী গ্রাজুয়েটের দক্ষ হাতে সম্পাদিত হয়েছে। তিনি শুধু দারুল উলুম নদওয়াতুল ওলামার তাফসির ফ্যাকাল্টির বহু বছরের সম্মানিত শিক্ষকই নন; বরং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, উন্নত রুচিবোধ ও স্বচ্ছ অন্তর্দৃষ্টির অপূর্ব সমন্বয়ে সঠিক অর্থেই একজন কুরআন বিশেষজ্ঞ। এ বিষয়ে তার অধ্যয়ন ব্যাপক ও সমৃদ্ধ। এ শাস্ত্রে তার দৃষ্টি সুগভীর। এটি আল্লাহ তায়ালার পরম অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা দান করেন। ইবনুল কাইয়িমের তাফসিরসহ তিনি বহু কিতাব ঘাঁটাঘাঁটি করে চমৎকার আঙ্গিকে সংকলন করে সুবিন্যস্তভাবে প্রকাশ করেছেন। আরও বিভিন্ন দিক থেকে তিনি নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন কুরআনের খেদমতে।
তার এ বইটি যদিও সংক্ষিপ্ত কলেবরের; কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বই। কুরআনি খেদমতের সুসমৃদ্ধ তালিকায় এটি যে একটি যৌক্তিক ও মূল্যবান সংযোজন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।