বই : জায়নামাজ
লেখক : আহমাদ সাব্বির
প্রকাশনী : নাশাত পাবলিকেশন
শিশুদের মানস গঠন হয় পারিপার্শ্বিক অবকাঠামো অনুযায়ী। স্বাভাবিকভাবেই শিশুরা যা দেখে, যা শোনে, কাঁচা মস্তিষ্কে তা গেঁথে যায়। কাজেই তাদের সাথে আচরণে-উচ্চারণে যথাসম্ভব মার্জিত, শালীন হওয়া চাই।
বাবা-মা শুদ্ধভাষী হলে, স্বাভাবিকভাবেই সন্তান হয় চনমনে, মিষ্টভাষী। তাদের নমনীয় আচরণ— সন্তানের বিনয়ী মেজাজ গঠনে সহায়ক হয়, এমনিভাবে সৌখিনতা ও উন্নত রুচিবোধের বিষয়টিও পারস্পরিক সংশ্রবেই গড়ে উঠে।
পরিপক্ব বয়সেও মানুষের চলাফেরা, আচার ব্যবহার, সমাজ মেইন্টেইন, কথাবার্তা, আদব লেহাজে বহু অসংগতি পরিলক্ষিত হয়। যাকে বলে— ‘পারিবারিক শিক্ষায় ত্রুটি’ একটা সময় সে চাইলেও এ-ত্রুটি কাটিয়ে উঠতে পারে না! অথচ, একজন সন্তান যখন বুঝতে শেখে তকনই এগুলো…
শিশুদের শুদ্ধ মন, সুস্থ চিন্তা আর পরিপাটি মেজাজে গড়ে তোলার অন্যতম পাথেয়— শিশু সাহিত্য। শিশুরা যখন একটু একটু করে পড়তে শিখে,তখন থেকেই অবিভাবকদের উচিত বই পাঠে অভস্ত্য করে তুলা। এতেকরে, গল্পের চরিত্র অবলম্বনে একটা ভাবনার জগৎ খুঁজে পাবে, সে নিজেকে নিয়ে ভাবতে শিখবে।
আমরাও কিন্তু ছোট সময় বিভিন্ন গল্পের সাথে পরিচিত হয়েছি, হয়তো কোনো বই পড়ে অথবা দাদু-নানি বা খালা-ফুপিদের মুখে শুনে। গল্পের প্রতি সবারই টান বা ঝোঁক ছিল, আছে, থাকবেই।
আমরা দাদু-নানিদের থেকে শুনেছি চাঁদের বুড়ী, টোনাটুনি, শেয়াল কুমির, আরও কত্ত কি! খালা-ফুপিদের মুখে শুনেছি আলিফ লায়লা, সিনবাদ-সহ ভূতপ্রেতের আরও কত্ত গপ্পো…
তন্ময় হয়ে শুনেছি, সন্ধ্যায় চাঁদ দেখতে দেখতে, পুকুর পাড়ে বাতাস খেতে খেতে, বর্ষার দিনে চালভাজা চিবোতে চিবোতে।
আসলে এখন আফসোস হয়— ভিত্তিহীন, বানোয়াট, মুখরোচক সে গল্পগুলোর স্থলে যদি শিক্ষনীয় কিছু থাকতো(!) যে তন্ময়তা আর ঘোর নিয়ে সেগুলো আওড়েোোছি, কতো মনযোগ! আহ্ সব অহেতুক, ভাবতেই আফসোসের তরঙ্গ উথলে ওঠে…
জায়নামাজ— আহমাদ সাব্বির লিখিত একটি অনবদ্য গ্রন্থ। শৈশবের প্রতি আমাদের যে আফসোস আর হতাশা, এ সময়ের শিশু-কিশোরদের তা থেকে উত্তোলনের কিছুটা হলেও সহায়ক হবে বইটি। নান্দনিক বারোটি গল্পে সাজানো হয়েছে এটিকে। সুনিপুণ বর্ণনায় শিশু মনে নববী আখলাখের আলো ছড়াবে। সরল বিন্যাস আর ঝরঝরে গদ্যের নৈপুণ্যে পাঠক মাত্রই আকর্ষিত হবে।
লিখেছেন : তানভীর আহমেদ