বই : আখলাক ও রুহানিয়াত।
লেখক: ডা. ইসরার আহমাদ।
অনুবাদ: ফাহাদ আবদুল্লাহ।
ঈমান এমন এক প্রেরণাশক্তি-যা কোথাও ব্যর্থ হয় না, প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানুষকে ভালো ও কল্যাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখে, তাতে দৃঢ়তা তৈরি করে এবং কোনো ক্ষেত্রেই ব্যক্তির সততা, সত্যবাদিতা ও আমানতদারিতার মধ্যে দুর্বলতা সৃষ্টি করে না। এর অজস্র উদাহরণ আমাদের সামনে আছে।
একবার খালিদ ইবনু ওয়ালিদ রা. শামের কোনো এক শহর পদানত করেন। এরপর শরিয়তের বিধান অনুযায়ী সেখানকার অমুসলিম বাসিন্দাদের কাছ থেকে জিযিয়া উসুল করেন। কিন্তু কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর দেখা যায়, যুদ্ধ-পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করেছে। খালিদ ইবনু ওয়ালিদ রা.- এর নেতৃত্বাধীন মুসলিম বাহিনী অনুভব করতে শুরু করেন, তারা খুব সম্ভব শত্রুবাহিনীর হাতে অবরুদ্ধ হতে যাচ্ছেন। এর অনিবার্য পরিণতি হিসেবেই অবরুদ্ধ হওয়া থেকে বাঁচতে তারা পশ্চাদপসরণের সিদ্ধান্ত নেন। তবে এর আগে শহরবাসীকে ডেকে তাদের কাছ থেকে উসুল করা জিযিয়া ফিরিয়ে দেন। কেননা, জিযিয়া তো নেওয়া হয়েছিল তাদের নিরাপত্তা দেওয়া হবে এজন্য। যেহেতু মুসলিমরা পিছু হটছে এবং মুসলিমরা শহরের প্রশাসকের দায়িত্বে থাকছেন না, সেজন্য তারা জিযিয়া ফেরত দেন। ...এ যে আখলাকের এই ধাপ ও স্তর, যার মধ্যে কোনো পরিবেশ বা পরিস্থিতিতেই দুর্বলতা দেখা দেয়নি; প্রকৃতপক্ষে এটা শুধু এবং শুধুই ঈমানের মাধ্যমে সম্ভব। ঈমান বিল্লাহ (আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস) ও ঈমান বিলআখিরাহ (পরকালের প্রতি বিশ্বাস) এমন প্রেরণাশক্তি-যা আমরা কুরআনের বদৌলতে লাভ করেছি।