বিয়ে-ব্যবস্থার কারণে সন্তান মা-বাবার নিকট-সান্নিধ্যে বড় হওয়ার সুযোগ পায়। সে মা-বাবার মধুর সম্পর্ক পদে পদে অনুভব করে। যৌবনে পদার্পণ করতে করতে তার মনে মা-বাবার বিবাহিত জীবনের মধুর চিত্র অঙ্কিত হয়ে যায়। এবং তার চিত্তে দাম্পত্য জীবন গভীর রেখাপাত করে। অতtপর সে যখন তার যৌন-জীবন সম্পর্কে ভাবতে শুরু করে তখন তার সামনে মা-বাবার দাম্পত্য জীবনের অভিজ্ঞতাই সবচে’ বড় হয়ে ফুটে ওঠে। সে-ও ঐরূপ জীবনের প্রতি আকৃষ্ট হয়। তার মা-বাবা যেমন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে জীবনকে সুন্দর করে তুলেছিলেন, তাকে সুন্দরভাবে মানুষ করেছিলেন, সে-ও বিয়ে করে নিজের জীবনকে তেমন সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে চায়। আমাদের প্রচলিত সমাজ-ব্যবস্থায় এভাবে বিয়ে মা-বাবা থেকে সন্তানে আবর্তিত হয়। মা-বাবাকে দেখে সন্তান বিয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং বিয়ে করে। তার সন্তান তার কাছ থেকে অভিজ্ঞতার পাঠ পায়। এভাবে বিয়ের প্রতি আকর্ষণ এক পুরুষ থেকে অন্য পুরুষে প্রবহমান নদীর মতো প্রবাহিত হতে থাকে।
এসব কারণে নিশ্চিত করেই বলা যায় যে, বিয়ে মহাপ্রলয় পর্যন্ত টিকে থাকবে। মানুষকে সার্বিক নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক তৃপ্তিও দিতে থাকবে। মানব-বংশ ধারাকে সুরক্ষিত ও প্রবহমান রাখবে।
বিয়ে : স্বপ্ন ও বাস্তবতা