'আদিবার দিনরাত্রি' নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে আদিবা নামের একজনকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাস লেখা হয়েছে। আদিবা একজন ধর্মপরায়ণ, নীতিবান এবং আত্মসম্মানবোধে পরিপূর্ণ একজন নারী। কিন্তু তার বিয়ে হয় বখে যাওয়া ধনীর দুলালের সাথে। সমাজের চিরাচরিত প্রথা হিসেবে পাত্রের পরিবার সন্তানকে 'লাইনে' আনতেই ছেলের কাজকর্ম সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদিবাকে বউ হিসেবে ঘরে আনে এবং বিয়ের রাতেই ঘটনাক্রমে তা জেনে ফেলে আদিবা। সেখান থেকে আদিবার জীবনে নতুন বাঁক নেয়। শক্তিশালী মনোবলের অধিকারী আদিবা একার্থে নিজেকে রক্ষা করতেই কঠোর ভূমিকায় অবতীর্ণ হোন। তার শ্বশুর সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের একজন যিনি কিনা অধিকাংশ সময় ইবাদাতে মশগুল থাকলেও উপার্জনের ব্যাপারে হালাল-হারাম সম্পর্কে উদাসীন। যার ফলাফল হিসেবে সমাজের ধনীদের কাতারে নাম উঠলেও সন্তানকে 'কিছু করে' খাওয়ার শিক্ষা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ একজন পিতা। উপন্যাসের প্রতিটি চরিত্রই আপনার আমার খুবই পরিচিত মানুষজন যাদের আমরা সুযোগে কখনো ব্যবহার করি, কারো কারো সাথে সমঝে চলি আবার কাউকে 'স্ট্যাটাস' নিয়ে চলার সুবিধার্থে কপট সম্মান দিয়ে বেড়াই। উপন্যাসের যে দিকটি আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে তা হলো, আদিবা চরিত্রটিকে সমাজ সংস্কারক কিংবা ঘরের শান্তি রক্ষার দূত হিসেবে দেখানো হয়নি। এই ধরনের গল্পে বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায়, ভালো গৃহিণীর ছোঁয়ায় আশপাশ পরিবর্তন হয়ে গেছে যার মাধ্যমে একধরনের অলিখিত দায়িত্ব ঘরের বউদের উপর বর্তায়। বরং আদিবাকে এখানে দেখানো হয়েছে, নিজ অধিকার সম্পর্কে সচেতন শক্তিশালী নারী হিসেবে যে কিনা তার জীবনের সাথে সরাসরি জড়িত বিষয়গুলো ছাড়া অন্যকিছুতে নিজের 'অসাধারণত্ব' প্রমাণ করতে যায় না। আদিবার শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের কারণে তার ব্যক্তিত্বহীন স্বামীও অস্তিত্ব সংকটে পড়ে যায় এবং নিজের অবস্থান নিয়ে ভাবতে বাধ্য হয়। উপন্যাসের কয়েকটি লাইন ছিল এরকম,
"বখাটে ছেলের বাবারা ছেলেকে সঠিক পথে আনার জন্যে শেষ অবলম্বন হিসেবে একটি ভালো মেয়েকে ছেলের বউ হিসেবে ঘরের আনার জুয়াটা খেলেন। জুয়া বলছি এই কারণে যে, এতে প্রায় সবসময়ই হিতে বিপরীত হয়। পঁচিশ বছরে যে বাবা-মা ছেলেকে বশে আনতে পারেন না, বউয়ের কাছে তা পঁচিশ দিনে আশা করে। তাও আবার বউকে কোন স্বাধীনতা না দিয়ে