সমাজের প্রত্যেক মুসলিম যদি নিজেকে এই বইয়ের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী গড়ে তোলে, তাহলে আমাদের সমাজের চিত্র তেমনই হবে, যেমনটি হয়েছিল ইসলামের স্বর্ণযুগে। সাহাবা রা: ছিলেন জীবন্ত ইসলাম। তাঁরা ছিলেন আদর্শ স্বামী-স্ত্রী, আদর্শ পিতা-মাতা, আদর্শ ভাই-বোন, আদর্শ প্রতিবেশী, আদর্শ বন্ধু, আদর্শ ব্যক্তিত্ব এককথায় আদর্শ মুসলিম। তখন ছিল না কোনো জুলুম-অত্যাচার, হানাহানি-লুটতরাজ; সর্বত্রই ছিল সহানুভূতি, মুহব্বত, ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য।
.
অথচ, আজকের সমাজের চিত্রটা কেমন?
নেশাগ্রস্ত সন্তানের হাতে বাবা-মা খুন, পিতা কর্তৃক সন্তানের কান ও লিঙ্গ কেটে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা, বন্ধুর ষ্ট্যাম্পের আঘাতে নির্মমভাবে বন্ধুর মৃত্যু, সম্পদের মোহে পরে ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভাইয়ের ষড়যন্ত্র, স্ত্রীর প্রেমিকের ছুরিকাঘাতে স্বামীর নির্বাক মৃত্যু, অহরহ গুম, খুন, হত্যা, রাহাজানির ঘটনা বর্তমান সমাজের নিত্যনৈমিত্তিক চিত্র।দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে প্রতিটি মুসলমান যদি পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করতো, নিজেদেরকে ইসলামের রঙে রাঙিয়ে নিত, তাহলে এমন অবক্ষয়ের পরিবর্তে সমাজে প্রবাহিত হতো শান্তির সুবাতাস, সমাজ হয়ে উঠতো জান্নাতের এক টুকরো বাগানসদৃশ।
মুসলমানদের এহেন দুরবস্থা থেকে উত্তরণ করতে, উদাসীন মুসলিমকে নিজের দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে অবগত করতে এবং সমাজের প্রতিটি স্তরের কদর্যতা দূর করে শান্তি-সৌহার্দপূর্ণ মুসলিম সমাজ গঠন করতে "আদর্শ মুসলিম" বইটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।