ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.-এর জন্মগ্রহণ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক আশ্চর্য মুজিজা বা অলৌকিক ঘটনা। পৃথিবীতে এমন বিরল-বিস্ময় ঘটনা এই একটিই। আদিমানব আদম আ.-কে পিতামাতাহীনভাবে এবং আদিমানবী হাওয়া আ.-কে মাতৃত্বহীন প্রণালিতে আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করেছেন। সকল ধর্মানুসারী লোকজন আদম ও হাওয়ার এমনতর সৃষ্টির বিষয়টিকে নির্দ্বিধায় ও প্রশ্নাতীতভাবে মেনে নিয়েছেন। কিন্তু ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.-কে আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করেছেন। পিতৃত্বহীন প্রক্রিয়ায়, শুধুমাত্র মাতৃগর্ভের মাধ্যমে এবং ঘটনাটিকে পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য 'নিদর্শন' বানিয়েছেন। তার এমন জন্মপ্রক্রিয়াটি মানুষের জ্ঞানকাণ্ডের সম্পূর্ণ বাইরের একটি বিষয়। তাই নানাবিধ বিতর্কের জন্ম দেয় তা কিন্তু বিশ্বজগতের মহান প্রতিপালক ও স্রষ্টা বা আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় সবকিছুই যে সম্ভব, কার্যকারণময় যুক্তিশীল এই মনুষ্যসমাজ তা মানতে নারাজ।
তারপর ঈসা আ.-এর অভাবিতপূর্ব শৈশব-কৈশোর, তার প্রতিপালন, নবুওয়ত, বিস্ময়-জাগানিয়া তথা মুজিজাপূর্ণ সমাজসেবা, তৎকালীন শাসকশ্রেণি ও ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব-সংঘাত, হাওয়ারিদের মাধ্যমে সৃষ্ট কঠিন ঈমানি পরীক্ষা ও একপর্যায়ে মহান আল্লাহর হুকুমে তার ঊর্ধ্বাকাশে আরোহণ ও অবস্থান, তার এই পৃথিবীতে পুনপ্রত্যাবর্তন ও নবি মুহাম্মদ সা.-এর একজন উম্মত হিসেবে তার জীবনযাপন, কিয়ামত তথা মহাপ্রলয়ের আগাম ইশারা এবং ইসলাম ধর্মের সত্যতা প্রভৃতি বিষয় নিয়ে ইহুদি-খ্রিষ্টান ও মুসলিমদের মধ্যকার হাজার বছরের দ্বন্দ্ব-বিরোধ ও বিবাদ-বিসংবাদের পরাকাষ্ঠায় কোনটি সত্য, কোনটি মিথ্যা, কোনটি বিশ্বস্ত, কোনটি পরিত্যাজ্য? তার যাথার্থ্য নির্ণয়ন ও আলোচনা-পর্যালোচনার জন্য বাংলা ভাষায় একটি আকরগ্রন্থ তথা প্রকৃষ্ট বই এই "ঈসা ইবনে মারইয়াম"।