‘দলিলসহ নামাযের মাসায়েল’
ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর ইজতিহাদ কত নিখুঁত, তাঁর চিন্তাভাবনা কত গভীর ও সুদূরবিস্তারী, কত সুচারু ও পরিপক্ব এবং তাঁর গৃহীত সিদ্ধান্ত কত বিশুদ্ধ ও কত দলিলসিদ্ধ, এ সম্পর্কে এ যাবৎকাল অনেক গবেষণা হয়েছে ও বিপুল লেখাজোখা হয়েছে, বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে হয়েছে এবং বিভিন্ন ভাষায় হয়েছে। সে গবেষণা ও আমাদের জ্ঞানজগতের এক বিরাট বিস্ময়। তা আমাদের অতি মূল্যবান সম্পদ।
'দলিলসহ নামাযের মাসায়েল' সে ধারারই এক সফল সংযোজন। যশস্বী মুহাদ্দিছ মাওলানা আব্দুল মতিন—আল্লাহ তা'আলা তাঁকে সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার সাথে দীর্ঘায়ু দান করুন — শ্রমসাধিত এ রচনায় আমাদের দেখিয়ে দিয়েছেন, নামাযেরও প্রতিটি মাসআলায় ইমাম আবূ হানীফা রহ.-এর সিদ্ধান্ত শক্ত বুনিয়াদের উপর স্থাপিত। সম্প্রতি যারা এ নিয়ে শোরগোল তোলার চেষ্টা করছে, তারা খামোখাই সময় ও সম্পদের অপচয় করছে। তারা হয় না বুঝে, নয়তো হঠকারিতা বশে এর বিরুদ্ধে কথা বলছে ও কলম চালাচ্ছে। তাদের এ তৎপরতায় জনমনে অহেতুক বিভ্রান্তি সৃষ্টি ছাড়া দীনের আদৌ কোনো খেদমত হচ্ছে কি না, তা তারা নিজেরা হয়তো চিন্তা করছে না।
শ্রদ্ধেয় লেখক হানাফী মতের সপক্ষে দলিল উপস্থাপনের পাশাপাশি যারা এর বিরুদ্ধে হুজ্জত করছে তাদের দুর্বলতার জায়গাগুলোও নিশানদিহি (চিহ্নিত) করে দিয়েছেন। সে দুর্বলতা যেমন পড়াশুনার অতিরিক্ত কমতি, তেমনি বুঝেরও ঘাটতি এবং অংশত স্বচ্ছতার অভাবও। মনোযোগী পাঠক মাঝেমাঝেই এবং বিধ দুর্বলতার নিশানদিহি দেখতে পাবেন। বিরুদ্ধাচারী ভাইদের ইখলাস তো থাকারই কথা। সেই ইখলাসের দাবিতে আশা করি এ রচনা তাদের মহলে দুর্দান্ত দাওয়াতের কাজ করবে। হয়ত তারা একটু ধমকাবেন, নিজেদের দিকে একটু ফিরে তাকাবেন এবং পরিশেষে সবরকম হঠকারিতা পরিত্যাগ করে ন্যায় ও ইনসাফের অবস্থানে নিজেদের দাঁড় করানোর সুযোগ পাবেন।