বইঃ বিপদ যখন নিয়ামাত
লেখকঃ শাইখ মূসা জিবরীল, উস্তাদ আলী হাম্মুদা, উস্তাদা শাওয়ানা আযীয।
প্রকাশনাঃ সন্দীপন প্রকাশন
কিছু বই থাকে, যেগুলো জীবনকে দেখার পার্সপেক্টিভও ঘুরিয়ে দিতে পারে; পারে অভিজ্ঞতা, ধ্যানধারণা কিংবা দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পুনর্পাঠের আয়োজনেও বসিয়ে দিতেও। 'বিপদ যখন নিয়ামত' বইটি যখন প্রথম পড়ি, তখন ভেতর ভেতর এর প্রয়োজনীয়তা এভাবেই উপলব্ধি করেছি।
শাইখ মূসা জিবরীল, উস্তাদ আলী হাম্মুদা, উস্তাদা শাওয়ানা আযীয- এই তিন বিজ্ঞ লেখকের আলোচনার ফ্লেভার যখন একই বইতে মলাটবন্দী হয়ে পাঠকের টেবিলে পৌঁছে, এই ফিলিংসটা হওয়াটা প্রাসঙ্গিক বটে। লেখকত্রয়ের ইলম কিংবা লিখার ধাঁচ নিয়ে পাঠকসমাজে নতুন করে বিশেষণের যোগমাত্রা দেওয়াটা নিতান্তই বাহুল্য। এই বিংশ শতাব্দীতে অল্প বাক্যব্যয়ে বৃহৎ ভাব প্রকাশের গুণটা হাতেগোনা যে ক'জন শাইখরা বহন করেন, লেখকগণ তাদের কাতারেরই একেকজন!
আমরা জানি, আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টিকুলের জীবনে যুগপৎ স্বাচ্ছন্দ্য আর বিপদ পরিক্রমণ রচনার সুবিবেচক সত্তা। আকারে কিংবা প্রকারে ভিন্নতা থাকলেও বিপদবিহীন জীবন কেউ লাভ করতে পারেনা। এরকম ভাবাটাও অবাস্তব-অকল্পনীয়। আমাদের উপর আপতিত যাবতীয় বিপদগুলো তিনি কখনো শাস্তি, কখনোবা নিয়ামাত হিসেবে প্রেরণ করেন। কিন্তু, যখন আমরা বিপদের সম্মুখীন হই, তখন এই বিপদকে স্রেফ মুসীবত ভেবে ধৈর্যচ্যুত হয়ে তাক্বওয়ার পজিশন সাকুল্যে রাখতে পারি না। বেলাশেষে ধৈর্য্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত ক'জনইবা হতে পারি?
আমাদের আলোচ্য বইটি মানুষের জীবনে আপতিত এই বিপদ- আপদের পাথেয় নিয়েই রচিত হয়েছে। সৃষ্টির পক্ষে কখনোই সর্বদা স্রষ্টার পরিকল্পনার যথার্থতা বুঝতে পারা সম্ভব নয়। আপাতদৃষ্টিতে বিপদের মাহাত্ম্য আমরা ধরতে পারবোনা। কিন্তু আর-রাহমান তার বান্দার জন্য সর্বোত্তমটাই চুজ করেন। হয়তো প্রাপ্তির পথটা অনেক লেংথি, দিতে হয় সবরের কঠিন কঠিন সব পরীক্ষা, তবুও দিনশেষে এই বিপদই হয়ে উঠে আমাদের জন্য নিয়ামাহ্। এই উপলব্ধিটাকে আরো ঝালাই দেওয়ার জন্যই মূলত বইটির অবতারণা।সন্দীপনে এই বইটার সিক্যুয়েলও এসেছে বেশ কয়েকদিন আগে। ঠিক বইয়ের সিক্যুয়েল না, বরং বলা চলে ভাবধারার সিক্যুয়েল! যারা পড়েননি, পড়তে পারেন ইন শা আল্লাহ্।