বই : গুজারিশ
রচয়িতা : মাজিদা রিফা
প্রকাশনী : রাহনুমা
আমাদের সমাজে ভদ্রতার মুখোশ-পরা অনেক ‘পেডোফিল’ বা শিশু যৌন নির্যাতনকারী রয়েছে। অধিকাংশ অভিভাবক ‘পেডোফিলিয়া’ সম্পর্কে সচেতন নন। মানুষের জীবনে, স্মৃতিতে এমনও কোনো ঘটনা থাকে, যা তাকে সারা জীবনের জন্য অর্ধমৃ*ত ও আত*ঙ্কিত করে রাখে। আমরা হয়তো জানি অথবা জানি না; কিংবা জেনেও না জানার ভান করি—আঙুল তুলে চুপ করিয়ে দেই অভিযোগকারীকে, যা মানুষটাকে সারা জীবনের জন্য মানসিকভাবে পঙ্গু করে রাখে।
নানামুখী নদীর উপর দিয়ে বয়ে গেলেও এই বইয়ের উৎস, তেমনি তিক্ত এক গল্প। পাঠকের সামনে হয়তো খুলে যাবে স্মৃতির দরজা; না হলেও পাঠপরবর্তী অনুভূতিতে সে আগলে রাখবে তার নিকটজন ও স্বজনকে। চোখ-কান খোলা রাখবে, যাতে কোনো শিশু-কিশোরের জীবন তিক্ত না হয়ে ওঠে
শিশুরা ফুলের মতো কোমল। তাদের শারীরিক-মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। আমরা সচেতন হলে তাদের জন্য সুস্থ একটা সমাজ গড়তে পারব। এক্ষেত্রে ‘গুজারিশ’ একটি সফল প্রচেষ্টা।
.
‘গুজারিশ’ কেবল একটি উপন্যাস নয়, এটি সচেতনতামূলক বই। এটি পাঠকের প্রতি গুজারিশ বা নিবেদন। প্রবন্ধ লিখেও সচেতনতা তৈরি করা যায়, কিন্তু উপন্যাসের মাধ্যমে বাস্তব জীবনের সাথে যতটা সম্পৃক্ত করা যায়, তা অন্য কোনোভাবে সম্ভব নয়। বইটি পড়ে আপনি রাবিয়ার জীবনের দুঃখগুলো গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন। বাহ্যিকভাবে সুস্থ একটা মানুষকে ছোটবেলার এক দুষ্ট ক্ষত কীভাবে সারাজীবনের জন্য বিপর্যস্ত করে দিতে পারে, দাম্পত্যজীবনেও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে, গুজারিশ না পড়লে বুঝতেই পারতাম না।
.
উপন্যাস হিসেবে বইটিকে অসাধারণ বলতে হয়। পড়া শুরু করলে শেষ না করে উঠতে পারবেন না। আমিও রাতের ঘুম বাদ দিয়ে এক বসায় পড়ে শেষ করেছি। কবিতাগুলো দারুণ। প্রচ্ছদ চমৎকার। বইয়ের নামটাও পারফেক্ট।
.
বইটিতে কিছু মুদ্রণপ্রমাদ রয়ে গেছে। বাঁধাই কোয়ালিটি আরো ভালো আশা করেছিলাম।
গ্রন্থটির বহুল প্রচার কামনা করছি। এটি যে উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে, তা যেন পূরণ হয়। বইয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আল্লাহ উত্তম বিনিময় দান করুন।